𖠇 নুন কবিতার বিষয়সংক্ষেপ/ বিষয়বস্তু : দেশভাগ, উদ্বাস্তু সমস্যা, অন্নের হাহাকার, আর তারই মাঝে চলতে থাকে নিম্নবিত্ত মানুষের বেঁচে থাকার চেষ্টা ও স্বপ্ন দেখা। তবে শুধু তাই নয়, একঘেয়ে স্বপ্ন দেখা আর মুক্তিযন্ত্রণায় কাতর মানুষ ক্রমে নিজের অধিকার বুঝে নিতেও চেষ্টা করে। মানুষের এ এক ধরনের স্বাভাবিক প্রবণতা। রাষ্ট্রের কাছে, সমাজের কাছে সে জীবনযন্ত্রণা বিষয়ে নিজস্ব প্রশ্ন ছুড়ে দেয়। ‘নুন’ শব্দটির একটি অদ্ভুত বিশেষত্ব হল, তা একইসঙ্গে সামান্য কিংবা অসামান্যকে নির্দেশ করে। পাঠ্য কবিতায় কবি প্রান্তিক মানুষের দিন অতিবাহিত করার কাহিনি তুলে ধরতে গিয়ে নুনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন। এ মানুষগুলো অল্পেই খুশি। অভাব-অনটন এদের কাছে সহ্যাতীত নয়। তাই সাধারণ মোটা ভাতকাপড়েই এদের দিন চলে। একঘেয়ে দুঃখকষ্টের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই এদের ভবিতব্য। সেইসঙ্গে রয়েছে রোগব্যাধি। দু-বেলার সামান্য রোজগারে থাবা বসাতে থাকে অসুখবিসুখ ও ধারদেনা। আর এইসব অর্থাভাব, অনাহার ভুলে থাকতে গঞ্জিকার শরণাপন্ন হতে হয়। ক্লান্ত, অবসন্ন মন ক্ষণিকের জন্য খুঁজে পায় সান্ত্বনা। এইসব দুঃখী ও অনাহারক্লিষ্ট মানুষগুলোর সবদিন বাজার করার সামর্থ্য থাকে না। তবে যেদিন হাতে অর্থ আসে, ক্ষুধার্ত মানুষের দীর্ঘলালিত স্বপ্নপূরণের ঘোরে এরা মাত্রাছাড়া বাজার করে। জরাজীর্ণ জীবনে নতুনের স্বপ্নে সৌন্দর্যের মোহে হয়তো বাড়ি ফেরার পথে গোলাপচারা কিনে আনে।
কিন্তু পরমুহূর্তেই কঠোর বাস্তব, মনকে জিজ্ঞাসু করে তোলে। সৌন্দর্যের প্রতীক সেই গোলাপ গাছের স্থান সংকুলান কোথায় হবে। কোনোক্রমে যদি-বা পোঁতা হয়, সেখানে ফুল ফুটবেই এমন নিশ্চয়তাও নেই। তাদের অস্তিত্বের মতোই যেন, এসবই সংশয়াচ্ছন্ন! তাই স্বপ্নের আচ্ছন্নতা কাটার উপক্রম হলেই হাতে তুলে নিতে হয় গঞ্জিকা। এভাবেই কোনোক্রমে অল্পে হেসে খেলে; কষ্ট করে কোনোক্রমে কাটিয়ে দেয়। দিন আনা, দিন খাওয়া এই মানুষগুলোর মাঝে মাঝে এমন অবস্থা হয় যে, দু-বেলা দু-মুঠোর সংস্থানটুকুও হয় না। খেটেখুটে রাতদুপুরে বাড়ি ফিরে যখন তারা দেখে ঠাণ্ডা ভাতে সামান্য লবণটুকুও নেই, অর্থাৎ খাওয়ার ন্যূনতম বন্দোবস্তটুকুই নেই; তখন মাথায় রাগ চড়ে যার। অভাবের সংসারে লেগে যায় সাংসারিক ও পারিবারিক কোন্দল। বাপব্যাটা সমস্ত রকম সামাজিক সপ্তমের মাথা খেয়ে যেন দুই ভাইয়ের খেয়োমেরি পর্যায়ে নেমে আসে। যদিও এ বিষয়ে সব পক্ষই নির্বিকার উদাসীন, ফলে কারও কোনো চক্ষুলজ্জা, অনুতাপ কিংবা মনোকষ্ট থাকে না। সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা পরিপার্শ্বের কাছে এরা নিজেদের শুকনো ভাতে সামান্য লবণের প্রত্যাশাটুকু জানায়। সামান্য লোকেদের এই ততোধিক অসামান্য দাবির মধ্যে জীবনে অন্তত একবারের জন্যেও ফুটে ওঠে মানবিক দৃঢ়তা, সংঘবদ্ধতা ও সংকল্প।
𖠇 নুন কবিতার উৎস : জয় গোস্বামীর 'নুন' কবিতাটি তাঁর পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ 'ভুতুমভগবান '-এর অন্তর্ভুক্ত। এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছিল।
class 11 Bengali 2nd semester suggestion Nun | Joy Goswami | Class XI | দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা নুন কবিতা প্রশ্ন উত্তর
MARK - 2/3 Question & Answer
Q1. কিনে আনি গোলাপচারা' – 'গোলাপচারা' কীসের প্রতীক এবং তা কেনার কারণ কী? (Mark-2)
➛ 'নুন' কবিতায় 'গোলাপচারা' সৌন্দর্য ও সজীবতার প্রতীক। গোলাপ যে-কোনো শ্রেণির মানুষের অন্তরমনে সুপ্ত শখ-শৌখিনতা ও সৌন্দর্যবিলাসের অনুভূতিকেই ফুটিয়ে তোলে। কবি বোঝাতে চেয়েছেন শত দারিদ্র্য ও অভাববোধ সত্ত্বেও মানুষের মন থেকে সৌন্দর্যবোধ ও শুভ চেতনা নষ্ট হয়ে যায় না। তাই দুঃখ জর্জরিত জীবনে সামান্য বাড়তি পয়সা হাতে এলে সুস্থ-সুন্দরের স্বাভাবিক ঝোঁকেই এই হতদরিদ্র মানুষ কিনে আনে গোলাপচারা।
Q2. 'আমরা তো অল্পে খুশি'—'অল্পে খুশি' মানুষদের জীবনযন্ত্রণার যে ছবি 'নুন' কবিতায় ফুটে উঠেছে তার পরিচয় দাও।
অথবা, 'আমরা তো অল্পে খুশি-বক্তার জীবনচরিতের কীরূপ পরিচয় কবিতায় ফুটে উঠেছে? (Mark-3)
➛ এক অতিসাধারণ নিম্নবিত্ত পরিবারের কোনোক্রমে টিকে থাকার রোজনামচার ছবি ফুটে উঠেছে কবি জয় গোস্বামীর ‘নুন’ কবিতায়। অভাব, অনটনে জর্জরিত এই মানুষগুলোর চাহিদা খুবই কম। মোটা ভাত, মোটা কাপড়ে কায়ক্লেশে তাদের দিন চলে; ধারদেনা করতে হয় অসুখজনিত কারণে। প্রতিদিনকার এই সাংসারিক জীবনযন্ত্রণাকে ভুলে থাকতে নেশাভাঙ জীবনেরই অংশ হয়ে দাঁড়ায়। অভাবের জেরে প্রতিদিন বাজার হয় না। আবার যখন হাতে পয়সা আসে তখন অপূর্ণ স্বপ্নপূরণের তাগিদে তা হয় মাত্রাছাড়া। গাছের চারা পোঁতার জায়গার অভাব সত্ত্বেও দু-চোখে উজ্জ্বল নতুনত্বের খোঁজে অত্যন্ত দ্বিধান্বিত চিত্তে কিনে আনে গোলাপচারা। তা থেকে ফুল ফোটার সম্ভাবনা নিয়েও সংশয় দেখা যায়। দিন শেষে তাদের শুকনে ভাতে সামান্য লবণটুকুও জোটে না। তখন বেপরোয়া রাগ ‘অল্পে খুশি থাকার ফানুসটাকে ছিঁড়ে ফাটিয়ে মানবিক অধিকারের চিরকালীন এক দাবি রাখে—তাদের ভাতে যেন লবণের ব্যবস্থা হয় ৷ এভাবেই ‘নুন’ কবিতায় অল্পে খুশি মানুষদের জীবনযন্ত্রণার ছবি কবি তুলে ধরেছেন সুন্দরভাবে।
Q3. 'নুন' কবিতায় কথক গোলাপচারা কিনে আনার পর কী কী সংশয়ে পড়েন? (Mark-2)
➛ গরিব-দুঃখী মানুষদের সামান্য মাথাগোঁজার জায়গাটুকু ছাড়া শখ-আহ্লাদ পূরণের জন্য অন্য কোনো স্থান থাকে না। একইসঙ্গে স্থান যদি একটুও থাকে তবুও উদ্যানচর্চা করার জন্য যে অবকাশ কিংবা যত্নের প্রয়োজন, তা অভাবী-অসহায় ‘নুন আনতে পান্তা ফুরোয়' অবস্থার মানুষগুলোর নেই। তাই ‘নুন' কবিতার কথক ঝোঁকের বশে বাজার থেকে কিনে আনা গোলপচারাকে কোথায় বসাবেন এবং তাতে ফুল ফুটবে কিনা সেই অনিশ্চয়তার কথা ভেবে সংশয়ে পড়েন।
Q4. ‘কী হবে দুঃখ করে ? - কবির এমন মন্তব্যের পিছনে যে জীবনযন্ত্রণার কথা লুকিয়ে আছে তা ব্যাখ্যা করো। (Mark-3)
➛ রাজা আসে, রাজা যায় কিন্তু দিন বদলায় না। কেবল শাসক ফেরিওয়ালার দল নতুন নতুন স্বপ্ন ফেরি করে মাত্র। সাধারণ মানুষ লুব্ধ হয় তাদের সেই স্বপ্নফেরিতে। তারা আবার প্রতারিত হয়। চির তমসা থেকে যেন সাধারণ মানুষদের মুক্তি নেই। তারা তাদের একঘেয়ে অভাবটাকে সহ্য করতে শেখে। সাধারণ ভাতকাপড়ের ধারণা আর অসুখবিসুখকে সম্বল করেই এদের দিন চলে। তাদের জীবনযন্ত্রণার হাত থেকে ক্ষণিক নিস্তার দেয় সস্তার নেশার আমোদ। পয়সার অভাবে সবদিন বাজার না হলেও যেদিন সুযোগ হয় সেদিন মাত্রাছাড়া বাজার করে; সৌন্দর্যবোধের তাগিদে গোলাপচারা কিনে আনে। কিন্তু ফুল ফোটার আয়াস দেখানোর সুযোগ তাদের জীবনবৃত্তে নেই। আসলে স্বপ্নকে ক্রমশ বিবর্ণ হতে দেখার এই খেলায় অংশগ্রহণ করতে তারা অভ্যস্ত ও বাধ্য। যে মানুষগুলোর দরিদ্রাবস্থা থেকে উত্তরণের কিংবা মুক্তির কোনো পথ নেই, তাদের দুঃখ করে দুঃখ দূর করার কোনো উপায় নেই । তীব্র অসহায়তা থেকেই তাই এমন উক্তি।
Q5. সে অনেক পরের কথা - হতাশাব্যঞ্জক 'কথা'-টি ব্যাখ্যা করো। (Mark-2)
➛ কবি জয় গোস্বামীর 'নুন' কবিতার আলোচ্য অংশে গোলাপচারার ফুল ফোটার অনিশ্চিত আশঙ্কা থেকেই কবি এমন মন্তব্য করেছেন। সৌন্দর্যের প্রতি আকর্ষণ, সুস্থ-সুন্দর জীবনের প্রতি আকাঙ্ক্ষা মানুষের সহজাত। তাই বাজার থেকে গোলাপচারা কিনে আনা মানবীয় স্বভাববৈশিষ্ট্যের পক্ষে একটুও অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু তাদের মনে থাকে না গোলাপচারা লাগানোর মতো সামান্য জায়গাও তাদের নেই কিংবা গোলাপচারার ফুল ফোটার মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বা ধৈর্যও তাদের নেই। আসলে বাস্তবকে ভুলে অভাবী মানুষের স্বপ্ন-উড়ানকেই কবি এখানে আশ্চর্য সহমর্মিতায় ব্যক্ত করেছেন।
Q6. 'রাত্তিরে দু-ভাই মিলে টান দিই গঞ্জিকাতে—উদ্ধৃত অংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (Mark-3)
➛ জয় গোস্বামী তাঁর 'নুন' কবিতায় পীড়িত-দরিদ্র মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের ছবি তুলে ধরেছেন। সামান্য চাহিদা ও অল্পে খুশি এই মানুষগুলো জীবনের হাজারো যন্ত্রণাকে ভুলে সাধারণ ভাতকাপড়ে দিন চালিয়ে নেয়। তাই রোগব্যাধিতে এই 'দিন | আনা দিন খাওয়া' মানুষগুলোর অন্যের কাছে হাতপাতা ছাড়া কোনো গতি। থাকে না। এই দরিদ্র মানুষগুলোর সবদিন বাজারও হয় না, যেদিন হাতে সামান্য পরসা আসে সেদিন বেহিসাবি স্বপ্নপুরণের তাগিদে কেনাকাটা হয় মাত্রাছাড়া। সুস্থ, সুন্দর, স্বপ্নময় জীবনের ঘোরে এরা সংশয় ও দ্বিধা নিয়েই। বাজার থেকে গোলাপচারা কিনে আনে। দিন শেষে কর্মক্লান্ত এই মানুষগুলো যখন ঠান্ডা ভাতে সামান্য লবণটুকুও পায় না, তখন তাদের মাথায় রাগ চড়ে যায়। অভাব-আত্মগ্লানি আর জীবনযন্ত্রণাকে ভুলতে ‘বাপব্যাটা' যেন দুই বন্ধুর পর্যায়ে নেমে এসে নেশা করে, সস্তার আমোদে মন ভোলায়। দীনদরিদ্র মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতাকে কবি এভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন।
Q7. ‘আমরা তো এতেই খুশি; বলো আর অধিক কে চায়?'— কারা, কেন অধিক কিছু চায় না? (Mark-2)
➛ কবি জয় গোস্বামীর 'নুন' কবিতায় 'আমরা' বলতে অসহায় দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষকে বোঝানো হয়েছে। হেসেখেলে, কষ্ট করে কোনোক্রমে দিন চলে যাওয়াতেই এই মানুষগুলো খুশি। কবির মতে, এই হতদরিদ্র দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোর জীবনে বেঁচে থাকার চাহিদা খুব কম; হয়তো দুঃখ-দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে করতে নিজেদের চাওয়াটাকে এরা সাধারণ ভাতকাপড়ের মধ্যেই সীমায়িত করে ফেলেছে। তাই তাদের অধিক চাওয়ার কিছু নেই; তারা এই কষ্ট করে দিন চলাতেই খুশি, অভ্যন্ত।
Q8. 'মাঝে মাঝে চলেও না দিন,—কার, কেন মাঝে মাঝে দিন চলে না? (Mark-3)
➛ কবি জয় গোস্বামীর 'নুন' কবিতা থেকে গৃহীত আলোচা অংশটিকে কবিতার কথক যিনি সমগ্র নিম্নবিত্ত দারিদ্র্যপীড়িত সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেছেন—তাঁর মাঝে মাঝে দিন চলে না। ‘মাঝে মাঝে চলে না দিন' কথাটির মধ্য দিয়ে সমাজের ‘দিন আনা দিন খাওয়া' নিন্মবিত্ত মানুষদের অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে প্রতিদিনের জীবন জাপনের কথার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। অত্যন্ত ন্যূনতম চাহিদাসম্পন্ন এই প্রান্তিক মানুষগুলো টিকে থাকতে গিয়ে সাধারণ ভাতকাপড়ের মধ্যেই চাহিদাকে সীমাবদ্ধ রাখে। তবে সঞ্চয়হীন এই মানুষগুলো দিন আনে দিন খায়—তাই সামান্য অসুখবিসুখেই এদের ধারদেনা করতে হয়। এরা বেহিসাবি কারণ হাতে পয়সা এলে এরা মাত্রাছাড়া খরচ করে। অল্পে খুশি, হেসেখেলে, কষ্ট করে দিন চালানো মানুষগুলোর তাই মাঝেমধ্যে দিন চলে না।
Q9. ‘মাঝে মাঝে চলেও না দিন, দিন না-চলার কারণ কী? (Mark-2)
➛ 'মাঝে মাঝে চলেও না দিন' কথাটির মধ্য দিয়ে সমাজের নিম্নবিত্ত মানুষদের অনিশ্চয়তার মাঝে প্রতিদিনের জীবনযাপনের প্রসঙ্গ কবি ভুলে ধরেছেন। ন্যূনতম চাহিদাসম্পন্ন এই দরিদ্র মানুষগুলো সাধারণ ভাতকাপড়েই নিজেদের চাহিদাকে সীমাবদ্ধ রাখে। তাই এই সঞ্চয়হীন মানুষগুলোর জীবন “দিন আনা দিন খাওয়া’। ফলে সামান্য অসুখবিসুখেই এদের ধারদেনা করতে হয়। আবার কখনও হাতে সামান্য পয়সা এলে বেহিসাবি হয়ে এরা মাত্রাছাড়াও খরচ করে—শখ-শৌখিনতাকে পুরণ করে। তাই অল্পে খুশি, হেসেখেলে, কষ্ট করে দিন চালানো মানুষগুলোর মাঝে মধ্যে দিন চলে না।
Q10. ‘আমরা তো সামান্য লোক—কে, কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলেছে? (Mark-3)
➛ উদ্ধৃত অংশটি জয় গোস্বানীর 'নুন' কবিতা থেকে গৃহীত। কবিতায় উক্ত অংশটির বক্তা কবিতার কথক। কথক এক্ষেত্রে সমগ্র দরিদ্র সমাজের শ্রেণি-প্রতিনিধি হয়ে 'আমরা' শব্দটি ব্যবহার করেছেন। নিম্নবিত্ত মানুষগুলো সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে। একটা দিন কাজ না-করলে তাদের অন্ন জোটে না। ফলে মাঝে মাঝে অর্থাভাবের কারণে এদের দিন চলতেও চায় না। এমন অবস্থায় কর্মক্লান্ত মানুষগুলো যখন গভীর রাতে বাড়ি ফিরে শুকনো ভাতে সামান্য লবণটুকু পায় না, তখন তাদের মাথায় রাগ চড়ে যায়। বাপব্যাটা দু-ভাই মিলে সারাপাড়া মাথায় করে। এভাবে রাগের বেপরোয়া অনিয়ন্ত্রিত বহিঃপ্রকাশে মানুষের অসুবিধার কথাও তারা জানে। আসলে এ পথেই তারা নিজেদের অসহনীয় অবস্থাকে বৃহত্তর ভদ্রসমাজরূপী শাসকের কাছে তুলে ধরতে চায়। কারণ নুনে-ভাতে থাকার সমস্ত মানুষের এই যৎসামান্য দাবির মধ্যে কোনো অন্যায় নেই। দু-চোখে স্বাধীনতার স্বপ্ন নিয়ে যাদের পূর্বপুরুষরা লড়াই করেছিল তাদের এই সামান্য চাওয়াটুকুর আশা থাকতেই পারে।
Q11. ‘খেতে বসে রাগ চড়ে যায়,—রাগ চড়ে যাওয়ার কারণ কী? (Mark-2)
➛কবি জয় গোস্বামী ‘নুন’ কবিতায় সমাজের দারিদ্র্যপীড়িত নিম্নবর্গীয় মানুষদের নিত্য দৈন্যের জীবন আলেখ্য রচনা করেছেন। শ্রমজীবী এই সাধারণ মানুষ যখন উদয়াস্ত পরিশ্রম করে কর্মক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরে, তখন পেট ভরার মতো সামান্য নুন-ভাতের আশাটুকু করে। কিন্তু যে সামান্য ঠান্ডা ভাতটুকু জোটে তার সঙ্গে সামান্য লবণও জোটে না। এই কারণে খেতে বসে রাগ চড়ে যায়।
Q12. ‘রাগ চড়ে মাথায় আমার, আমি তার মাথায় চড়ি’—উদ্ধৃতাংশের অর্থ পরিস্ফুট করে মাথায় রাগ চড়লে কী ঘটনা ঘটে কবিতা অবলম্বনে লেখো। (Mark-2)
➛ অভাবী মানুষ নিজের অবস্থার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে একটা সময় অসংযমী আর হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে; আলোচ্য অংশে এই পরিস্থিতির কথাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। জয় গোস্বামীর ‘নুন’ কবিতায় কথকের মাথায় রাগ চড়লে, রাগের বশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্যাপারটা দুজনে মিলে চিৎকার-চ্যাঁচামেচি করে সারাপাড়া মাথায় করে।
Q13. ‘বাপব্যাটা দু-ভাই মিলে সারাপাড়া মাথায় কবি’–বলা হয়েছে কেন? (Mark-2)
➛ ‘অল্পে খুশি’ হতদরিদ্র মানুষেরা জীবনের দুঃখকে খুব সাধারণভাবে মেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। অর্থাভাবে প্রায়ই এদের এমন অবস্থা হয় যে, দিন যেন চলতে চায় না। তখন দুপুররাতে বাড়ি ফিরে শুকনো ভাতে সামান্য লবণটুকুও না-পেয়ে বহুদিনকার মেনে-মানিয়ে নেওয়ার সুপ্ত ক্ষোভ উগরে দেয়। ক্ষোভের অনিয়ন্ত্রিত ও অসংযত বহিঃপ্রকাশের ফলে সামাজিক সম্ভ্রম কিংবা মর্যাদা বা সম্পর্কের লঘু-গুরুর ধারণাটুকুও লোপ পায়। বাপব্যাটার রাগের মাথায় একই পর্যায়ে নেমে আসাকে কবি এভাবেই আলোচ্য উদ্ধৃতিটিতে ফুটিয়ে তুলেছেন।
Q14. 'নুন' কবিতাটির মূল কাব্যগ্রন্থের নামোল্লেখসহ কবির অপর দুটি কাব্যগ্রন্থের উল্লেখ করো। (Mark-2)
➛‘নুন' কবিতাটি কবি জয় গোস্বামীর ‘ভুতুমভগবান' নামক কাব্যগ্ৰন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। কবি জয় গোস্বামীর লেখা অপর দুটি কাব্যগ্রন্থ হল—(i) ‘প্রত্নজীব’, (ii)‘পাতার পোশাক'।
Q15. 'আমরা তো সামান্য লোক'— 'সামান্য লোক' শব্দের তাৎপর্য। ব্যাখ্যা করো। (Mark-3)
➛ উদ্ধৃত অঁশটি কবি জয় গোস্বামীর 'নুন' কবিতা থেকে গৃহীত। ‘সামান্য লোক' শব্দটির সাহায্যে কবি জয় গোস্বামী সমাজের নিম্নশ্রেণির মানুষদেরকে বুঝিয়েছেন যারা অল্পে খুশি। অভাব ও দুঃখটাকে নিত্য ধরে নিয়ে যারা সাধারণ ভাতকাপড়ে কোনোভাবে দিন চালায়, তারা তো 'সামান্য', তুচ্ছ কিংবা উপেক্ষার পাত্র। তাই রাতদুপুরে এদের শুকনো ভাতে সামান্য লবণটুকুও জোটে না। শাসকের অবজ্ঞা আর অবহেলা যে সাধারণ মানুষের আর্থিক দৈন্যদশার মূল, কবির 'সামান্য লোক' শব্দবন্ধে কোথাও যেন সেই শ্লেষ ও বিদ্রুপ প্রকট হয়ে ওঠে।
Q16. কবিতায় ‘নুন’ কীসের প্রতীক হিসেবে প্রযুক্ত হয়েছে এবং কবিতায় কথকের অভিপ্রায়টিই-বা কী? (Mark-2)
➛‘নুন’ অপরিহার্যতার প্রতীক। অর্থাৎ বেঁচে থাকার জন্য যেটুর অপরিহার্য, সেটুকু বন্দোবস্ত করার দাবি পাঠ্য ‘নুন' কবিতায় সোচ্চার ভাষায় ধ্বনিত হয়েছে। ‘নুন’ কবিতায় কথক অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন, যেন তাঁদের ঠান্ডা ভাতে ‘নুন’ তথা লবণের ব্যবস্থা করা হয়।
Q17.‘নুন' কবিতাটি যাদের নিয়ে লেখা, তাদের কোন সমস্যাটি কবিতায় প্রকাশিত হয়েছে? (Mark-2)
➛ কবি জয় গোস্বামীর 'নুন' কবিতাটি পীড়িত, প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত মানুষদের জীবনচর্যাকে কেন্দ্র করে লেখা। সমাজের নীচুতলার মানুষের অন্ন, বস্ত্র এর সমস্যার সঙ্গে সঙ্গে অসুখে ওষুধ না জোটা বা ধারদেনা করে কোনোভাবে বেঁচে থাকার সমস্যাগুলি 'নুন' কবিতায় প্রকাশিত হয়েছে।
Q18. ''আমরা তো অল্পে খুশি;'-কারা, কেন অল্পে খুশি? (Mark-2)
➛ 'নুন' কবিতানুসারে ক্ষুদ্রার্থে 'আমরা' হলেন-কথক ও তাঁর বাবা। কিন্তু বৃহত্তর অর্থে- যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরোয় সেই সমস্ত দরিদ্র-প্রান্তিক মানুষকে বোঝানো হয়েছে। নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে অভাব-অনটন থাকায় নিত্য দুঃখ লেগেই থাকে। তাই কবি অল্পেতেই সন্তুষ্ট থাকতে চেয়েছেন।
Q19. 'কী হবে দুঃখ করে ?'—কথক কেন দুঃখ করতে চান না? (Mark-2)
➛ কবি জয় গোস্বামীর 'নুন' কবিতার কথক জানেন যে, তাঁদের দারিদ্র্য লাঞ্ছিত জীবনের প্রতি সমাজের ধনী তথা বিত্তবানদের কোনোরূপ সমবেদনা নেই। অর্থাৎ কথকদের দুঃখের অবসান তো হবেই না, বরং দুঃখ করলে হৃদয়ভার বেড়ে যাবে তাই কথক দুঃখ করতে চান না।
Q20. 'আমাদের দিন চলে যায় সাধারণ ভাতকাপড়ে। - সাধারণ ভাতকাপড়ে’ দিন চলে যাওয়ার কারণ কী? (Mark-2)
➛ ‘নুন' কবিতায় কবি জয় গোস্বামী একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের অসহায়তাকে কোনোরকমে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার কাহিনি বর্ণনা করেছেন। নিম্নবিত্ত মানুষ বেঁচে থাকার জন্য সাধারণ ভাতকাপড়ের মতো ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তার মধ্যেই নিজস্ব চাহিদার সার্থকতা খোঁজে। কবি এখানে সেই সত্যই ফুটিয়ে তুলেছেন।
Q21. টান দিই গঞ্জিনাতে।’–কারা, কেন গঞ্জিকাতে টান দেয়? (Mark-2)
➛ অনিশ্চয়তা, অভাব ও আর্থিক টানাপোড়েনে জর্জরিত দীনদুঃখী মানুষ রুঢ় বাস্তবের অশান্তির হাত থেকে বাঁচতে গঞ্জিকা সেবন করে। ‘গঞ্জিকা’ হল নেশার সামগ্রী। নিপীড়িত-দীনদরিদ্র মানুষ জীবনের কঠোর বাস্তবতা ও দুঃখযন্ত্রণাকে ভুলে থাকার জন্য গঞ্জিকা সেবন করে নিজেদের নেশায় আচ্ছন্ন করে রাখে।
Q22. সব দিন হয় না বাজার; হলে, ছয় মাত্রাছাড়া'—সব দিন বাজার না-হওয়ার কারণ কী এবং যখন হয় সেই মাত্রাছাড়া বাজারের নমুনাই-বা কী। (Mark-2)
➛ কবি জয় গোস্বামীর 'নুন' কবিতা অনুসারে কথকদের সব দিন বাজার না-হওয়ার কারণ তাদের আর্থিক দৈনদশা। অর্থের অভাবে তাদের সব দিন বাজার করা হয়ে ওঠে না। কবির কথায় দরিদ্র মানুষদের অর্থের অভাবে রোজ বাজার করার সামর্থ্য না-থাকলেও যেদিন বেশি রোজগার হয় সেদিন মনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে লালিত স্বপ্নের উচ্ছ্বাস ও তাগিদে এলোমেলো বেহিসাবি খরচ হয়ে যায়। সুপ্ত শখ-শৌখিনতা ও সৌন্দর্যবিলাসে মত্ত হয়ে গোলাপচারাও কিনে বসে।
Q23. করি তো কার তাতে কী?'—উক্তিটির ইঙ্গিত ব্যক্ত করো? (Mark-2)
অথবা, 'করি তো কার তাতে কী?'— তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
➛নিত্য অভাব, অনটন ও উপেক্ষা মানুষের মধ্যে এক ধরনের উদ্ধত অসংযমের জন্ম দেয়। প্রশ্নের এই অংশে সেই অসংযত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। রাত্তিরে বাড়ি ফিরে কর্মক্লান্ত নিম্নবিত্ত মানুষেরা যখন ঠান্ডা ভাতে প্রয়োজনীয় লবণটুকুও পায় না, তখনই তাদের মাথায় রাগ চড়ে যায় এবং চিৎকার-চ্যাচামেচি করে সারাপাড়া মাথায় করে। সারাপাড়ায় তখন পৌঁছে যায় তাদের ক্ষোভের বেপরোয়া চিৎকার—করি তো কার তাতে কী?' মুহূর্তের ঔদ্ধত্য ভেঙে দেয় সব কিছু মেনে নেওয়ার সভ্য প্রয়াসকে। সভ্য সমাজ যে আপাত ভদ্রতার শিক্ষা দেয় তার বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের মতো করে ভদ্রলোকের পৃথিবীকে অবজ্ঞা করার দুঃসাহস তখন শোনা যায় এই নিম্নবিত্তদের কণ্ঠস্বরে।
Q24. 'আমরা তো সামান্য লোক’–‘সামান্য লোক' শব্দবন্ধ প্রয়োগের কারণ উল্লেখ করে কবিতায় এই শব্দবন্ধ প্রয়োগে লেখকের ইঙ্গিত ব্যক্ত করো। (Mark-2)
➛ কবি জয় গোস্বামী ‘নুন' কবিতায় দারিদ্র্যপীড়িত নিম্নবর্গীয় মানুষদের ‘সামান্য লোক’ বলেছেন। কারণ তারা সমাজের পীড়িত সর্বহারা মানুষ, তাদের চাহিদাও অতি অল্প, তাদের অবস্থা 'নুন আনতে পান্তা ফুরোনো'-র মতোই । তাই তারা সামান্য লোক। ‘সামান্য’ শব্দের মধ্য দিয়ে সমাজের নীচের তলায় বসবাসকারী মানুষদের বোঝানোর পাশাপাশি কবি সমাজ ও রাষ্ট্রের উপেক্ষা ও তাচ্ছিল্যের প্রতি শ্লেষও ব্যাক্ত করেছেন। 'সামান্য' শব্দটি এখানে হতদরিদ্র মানুষদের সামান্য অধিকার রক্ষিত না-হওয়ার ক্রোধ ও অভিমানের প্রতীক।
Q25. “আমাদের শুকনো ভাতে লবণের ব্যবস্থা হোক।’—ভাতকে ‘শুকনো’ বলার কারণ কী? (Mark-2)
➛ কবি জয় গোস্বামীর ‘নুন’ কবিতা আলোচ্য পঙ্ক্তিতে শুকনো ভাতের কথা বলেছেন কারণ পঞ্চব্যঞ্জনে সজ্জিত অন্ন গরিবের কাছে স্বপ্নের অতীত। ভাতের সস্তা, অনাদৃত, পঞ্চব্যঞ্জনহীন নীরস রূপটিকে ‘শুকনো’ভাতের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
MARK - 5 Question & Answer
নুন কবিতা প্রশ্ন উত্তর 5 marks
Q1. ‘নুন' কবিতার নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
❐ উৎস : জয় গোস্বামীর 'নুন' কবিতাটি তাঁর পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ 'ভুতুমভগবান '-এর অন্তর্ভুক্ত। এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছিল। সমাজের প্রান্তিক, খেটেখাওয়া ও অন্ত্যজ শ্রেণির মানুষেরাই জয় গোস্বামীর ‘নুন' কবিতার ভরকেন্দ্র। নিম্নবিত্ত এই মানুষগুলো অল্পে খুশি বলেই সাধারণ ভাতকাপড়ে, দুঃখে, অসুখে কিংবা ধারদেনাতেও এদের জীবনের স্বাভাবিকতা নষ্ট হয় না। এরা জানে দুঃখ করলে দুঃখ দূর হয় না। তাই সস্তা খুশির খোঁজে গাঁজায় টান দেয়। এভাবে বাস্তব থেকে মুখ ফিরিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করলেও, খিদে-ঘাম ও রক্তে ভেজা বাস্তব এদের পিছু ছাড়ে না। তাই কোনোদিন হয়তো বাজার করার সামর্থ্য থাকে না, আবার কোনোদিন অভাবিত আয়ের সুবাদে দীর্ঘলালিত স্বপ্নপূরণের ঘোরে এরা মাত্রাছাড়া বাজার করে ফেলে। রু-জীর্ণ জীবনে নতুনের মোহে কিংবা সৌন্দর্যের আকাঙ্ক্ষায়, গোলাপচারা অব্দি কিনে আনে। অথচ বাড়িতে স্থানাভাব, ফুল ফোটার নিশ্চয়তা নেই—এইসব ভবিতব্যের ঘাড়ে চাপিয়ে হাসি-রাগ-কষ্টে এদের দিন কাটে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই অভাবের হাত থেকে এ মানুষগুলো নিস্তার পায় না। তাই মাঝে মাঝে রাত্তিরে বাড়ি ফিরে ঠান্ডা ভাতে সামান্য নুনটুকু না-পাওয়ায়; রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তখন সামাজিক সম্ভ্রম-মর্যাদা ভুলে, মেনে-মানিয়ে নেওয়ার মুখোশ এক টানে ছিঁড়ে ফেলে রাষ্ট্র কিংবা ভদ্রসমাজের কাছে এরা থালার শুকনো ভাতে সামান্য লবণের সোচ্চার দাবি জানায়। এখানে লক্ষণীয় ‘নুন’ আসলে অপরিহার্যতার প্রতীক। অর্থাৎ বেঁচে থাকার জন্য যেটুকু অপরিহার্য, মানুষ যেন শুধু সেটুকুর উপরেই নিজের অধিকার পেশ করে। তাই গোটা কবিতাজুড়ে অভাবী মানুষের মানিয়ে চলা ও সহনশীলতার কথা থাকলেও; একদম শেষে ‘নুন’-এর রূপকে সে নিজের অধিকারকেই প্রতিষ্ঠিত করেছে। এসব দিক দিয়ে বিচার করলে কবিতাটির ‘নুন’ নামকরণ গভীরভাবে ব্যঞ্জনাময় ও সার্থক ।
Q2. ‘আমাদের দিন চলে যায় সাধারণ ভাতকাপড়ে — 'নুন' কবিতায় নিম্নবিত্ত জীবনের যে ছবি প্রকাশ পেয়েছে তা লেখো।
❐ উৎস : জয় গোস্বামীর 'নুন' কবিতাটি তাঁর পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ 'ভুতুমভগবান '-এর অন্তর্ভুক্ত। এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছিল। এখানে কবিতার কথক তাঁর জবানীতে একটি সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কবিতায় তাই ‘আমরা’, ‘বাপব্যাটা', ‘দু-ভাই' ইত্যাদি বহুবচনবোধক পদের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। স্বাধীনোত্তর সমাজে নিম্নবিত্ত শ্রেণিও হয়তো জীবনবদলের স্বপ্ন দেখেছিল। তাই তারা কখনও রাস্তায় নেমে মিছিলে হেঁটেছে, আবার কখনও মুষ্টিবদ্ধ হাত আকাশের দিকে ছুঁড়ে তাদের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের দাবি জানিয়েছে। দিন বদলেছে কিন্তু তারা যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। একঘেয়ে অভাবটাকে ক্রমাগত সহ্য করতে করতে তারা স্বপ্ন দেখাই ভুলতে বসেছে। চাহিদাকে তারা সীমিত পরিসরে বেঁধে ফেলেছে। ভয়ে খুশি হয় বলেই হয়তো, তাদের কোনো দুঃখ থাকে না। অসুখবিসুখের হাতস্থানিকে উপেক্ষা করে বেঁচে থাকার লড়াই চলে। ফলে শখ-শৌখিনতার ঘোরও তাদের ছেড়ে যায় না। তাই একটু উপার্জন হলে মাত্রাছাড়া বাজার করে, সৌন্দর্যকে বাঁচিয়ে রাখতে গোলাপচারা কিনে আনে। গোলাপের ফুল হয়ে ফোটা হবে না জেনেও হেসেখেলে কষ্ট করে দিন চালিয়ে নেয় । অথচ রাতে এদের শুকনো ভাতে সামান্য লবণটুকুও জোটে না। তখন এরা শুকনো ভাতে সামান্য লবণের ব্যবস্থার দাবি জানায়। কিন্তু বেঁচে থাকার চিরকালীন দাবিটুকু অমলিন থাকলেও সমাধান অধরাই থেকে যায়।
Q3. ‘বাড়িতে ফেরার পথে কিনে আনি গোলাপচারা-গোলাপচারা কেনার মধ্যে কোন সত্য প্রকাশিত হয়েছে? যে জীবনের কথা এখানে বর্ণিত হয়েছে তা লেখো। (Mark : 2 + 3 = 5)
❐ উৎস : জয় গোস্বামীর 'নুন' কবিতাটি তাঁর পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ 'ভুতুমভগবান '-এর অন্তর্ভুক্ত। এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছিল। কবিতাটি যেন বিরুশূন্য মানুষের জীবনবেদনা। কবি এই পঙ্ক্তিটিতে বোঝাতে চেয়েছেন যে, শত দারিদ্র্য ও অভাববোধ সত্ত্বেও মানুষের মন থেকে সৌন্দর্যবোধ ও শুভচেতনা নষ্ট হয়ে যায় না। তাই অনটন ও অভাবের মাঝেও সে গোলাপচারা কেনার মতো উন্নাসিক ও বেহিসাবি মানসিকতা দেখায়।
▻ কবি এই কবিতায় নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনের নিত্য টানাপোড়েনের একটি নিখুঁত ও বাস্তব ছবি এঁকেছেন। অল্পেতে খুশি মানুষগুলোকে দুঃখের অনল পুড়িয়ে দগ্ধ করতে পারেনি। বরং তারা যেন পুড়ে খাঁটি সোনায় পরিণত হয়েছে। তাই মোটা ভাতকাপড়ে দারিদ্র্যে-দেনায় হেসেখেলেই তারা দিন কাটায়। সামান্য বাড়তি পয়সা হাতে এলেই এরা সব কিছু ভুলে মাত্রাছাড়া বাজার করে ফেলে। সুস্থ ও সুন্দরের স্বাভাবিক ঝোঁকেই কিনে আনে গোলাপচারা। নিজেদের অস্তিত্বের অনিশ্চয়তার মতোই গোলাপের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎও এদের কাছে সত্য; কিন্তু শেষ সত্য নয়। এভাবে সৌন্দর্য ও নতুনত্বের প্রতি সাময়িক আর এ মানুষগুলোর মধ্যে লুকিয়ে থাকা মনুষ্যকেই বড়ো করে তোলে।
Q4. ‘ফুল কি হবেই তাতে?—কোন ফুল ? এই সংশয় কেন? (Mark : 2 + 3 = 5)
❐ উৎস : জয় গোস্বামীর 'নুন' কবিতাটি তাঁর পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ 'ভুতুমভগবান '-এর অন্তর্ভুক্ত। এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছিল। আলোচ্য অংশে 'ফুল' বলতে গোলাপ ফুলের কথা বলা হয়েছে। তবে এখানে কবি ‘গোলাপ’-কে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে সমাজের নিম্নবিত্ত মানুষের সৌন্দর্যবিলাস ও শৌখিন জীবনযাপনের প্রতি আকাঙ্ক্ষাকে ইঙ্গিত করেছেন।
▻ কবির মতে সমাজের নিম্নবিত্ত মানুষ যারা ‘অল্পে খুশি', যাদের সাধারণ ভাতকাপড়ে দিন চলে কিংবা অসুখে-ধারদেনাতে যারা জর্জরিত; তাদের জীবনের মধ্যে একটা বেপরোয়া বেহিসাব আছে। এরা সুযোগ পেলেই মাত্রাছাড়া হয়ে পড়ে দীর্ঘদিন ধরে লালিত অপ্রাপ্তি ও অচরিতার্থ বাসনাকে পূর্ণ করতে আবেগের বশে হয়তো গোলাপচারা কিনে ফেলে। অর্থাৎ অভাব, যন্ত্রণা এবং ক্লান্তির মধ্যে বেঁচে থাকলেও এই মানুষগুলোর জীবন থেকে সৌন্দর্যবোধ মুছে যায় না। পরক্ষণেই রূঢ় বাস্তবিকতা মনে সংশয় জাগায়, চারাটুকু পোঁতার মতো জায়গার অভাবের সঙ্গে ফুল হয়ে ফোটার মতো দীর্ঘসূত্রতাকে রক্ষা করা তাদের পক্ষে আদৌ সম্ভব কি! আসলে বারবার প্রতিশ্রুতিভঙ্গ আর স্বপ্নভঙ্গের তিক্ত অভিজ্ঞতা যেন তাদেরকেই বিদ্রুপ করে। ইচ্ছেপূরণের ব্যর্থতার এই সংশয়ধ্বনিই প্রশ্নের এই অংশে ব্যক্ত হয়েছে।
Q5. ‘সে অনেক পরের কথা—কোন কথা? উক্তিটির মর্মার্থ লেখো। (Mark : 2 + 3 = 5)
❐ উৎস : জয় গোস্বামীর 'নুন' কবিতাটি তাঁর পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ 'ভুতুমভগবান '-এর অন্তর্ভুক্ত। এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছিল। আলোচ্য অংশে ‘কথা’-টি হল অতিসাধারণ নিম্নবিত্ত মানুষের অবদমিত শখ ও সৌন্দর্যের প্রতীকস্বরূপ বাজার থেকে কিনে আনা গোলাপচারায় ফুল ফুটবে কিনা সেই কথা।
▻মানুষ তার ক্ষমতানুসারে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে এবং তাকে বাস্তবায়িত করতে চায়। কিন্তু সমাজের নীচুতলার মানুষগুলি যারা অল্পে খুশি, যাদের সাধারণ ভাতকাপড়ে দিন চলে, যাদের চাহিদা সামান্য, যারা ক্রম-ক্ষয়িষ্ণু কঠোর বাস্তব তাদের ইচ্ছে-সাধ কিংবা স্বপ্নকে কখনও পূর্ণতা পেতে দেয় না। সৌন্দর্যের প্রতি আকর্ষণ, সুস্থ কিংবা সুন্দর জীবনের প্রতি আকাঙ্ক্ষা তো অনিবার্য। তাই বাজার থেকে গোলাপচারা কিনে আনা মানবীয় স্বভাববৈশিষ্ট্যের পক্ষে একটুও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। কারণ এই মানুষগুলোর মনে জায়গা এবং যত্নের অভাবজনিত সন্দেহ আর সংশয় থাকলেও তাদের ভালোভাবে বাঁচার ইচ্ছেটুকু তো মিথ্যে নয়। এভাবে বাস্তবকে ভুলে অভাবী মানুষের এই স্বপ্ন-উড়ানকেই কবি এখানে এক আশ্চর্য সমমর্মিতায় ব্যক্ত করেন।
Q6. ‘খেতে বসে রাগ চড়ে যায়—রাগের কারণ কী? এই রাগ কতদূর সংগত বলে তুমি মনে কর? (Mark : 2 + 3 = 5)
❐ উৎস : জয় গোস্বামীর 'নুন' কবিতাটি তাঁর পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ 'ভুতুমভগবান '-এর অন্তর্ভুক্ত। এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছিল। এক্ষেত্রে দারিদ্র্যক্লিষ্ট কর্মক্লান্ত মানুষগুলো যখন রাতদুপুরে বাড়ি ফিরে খেতে বসে ঠান্ডা ভাতে সামান্য লবণটুকু থেকেও বঞ্চিত হয়, তখন তাদের রাগ চড়ে যায়।
▻ এই রাগ অত্যন্ত স্বাভাবিক। অল্পে খুশি হয়ে কোনোক্রমে টিকে থেকে নিম্নবিত্ত মানুষ দিন গুজরান করে। দিন বদলায় অথচ অভাব, অনটন, দৈন্য এদের পিছু ছাড়ে না। সাধারণ ভাতকাপড়ে ধারদেনায় স্বল্প চাহিদায় এরা কোনোরকমে ক্ষুন্নিবৃত্তি করে। ক্রমশ নিঃস্ব, শূন্য ও সর্বস্বান্ত হয়ে যাওয়াই যেন এদের ভবিতব্য। অথচ রাষ্ট্র তথা ভদ্রসমাজের কাছে এরা চির উপেক্ষার ‘সামান্য লোক’। তাই শাসকের কাছে এদের শুকনো ভাতে সামান্য লবণের সোচ্চার দাবি এটাই স্বাভাবিক। 'লবণ' শব্দটির মধ্য দিয়ে তারা জীবনের ন্যূনতম ও অপরিহার্য চাহিদাপুরণের কথা বলে। দরিদ্র জনগণের ক্ষুধার্ত পেটে সামান্য 'নুন'-এর প্রত্যাশা যেন বেঁচে থাকার ন্যায়সংগত অধিকারের সুগভীর ব্যঞ্চনাকেই তুলে ধরে।
Q7. ‘আমি তার মাথায় চড়ি—কে, কার মাথায় চড়ে? পক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। (Mark : 2 + 3 = 5)
❐ উৎস : জয় গোস্বামীর 'নুন' কবিতাটি তাঁর পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ 'ভুতুমভগবান '-এর অন্তর্ভুক্ত। এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছিল। নিম্নবিত্ত শ্রেণির প্রতিভূ হিসেবে 'নুন' কবিতার কথক, রাতদুপুরে বাড়ি ফিরে শুকনো ভাতে সামান্য নুনটুকু না-জোটায়; বেপরোয়া ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বোঝাতে উপরোক্ত মন্তব্যটি করেছেন।
▻ জয় গোস্বামীর 'নুন' কবিতাটি দরিদ্র, নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনের রোজকার ভাষ্য। ‘অল্পে খুশি’ অভাবী মানুষগুলোর চাহিদা খুব বেশি নয়। একঘেয়ে মুখেকটিকে মেনে নিয়ে সাধারণ ভাতকাপড়েই তাদের দিন চলে। কিন্তু ক্ষয়িত্ব শরীরটাকে অসুখবিসুখে ধরলে; অন্যের কাছে হাত পেতে ধারদেনা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। বাজার করার সামর্থ্যও সবসময় থাকে না, আবার কোনোদিন সামান্য অর্থাগম ঘটলে এরা মাত্রাছাড়া বাজার করে, স্বপ্ন ও শৌখিনবিলাসের ঘোরে কিনে আনে গোলাপচারা। এভাবেই কোনোরকমে হেসেখেলে কষ্ট করে এদের দিন চলে। আবার দিন শেষে কর্মক্লান্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে শুকনো ভাতে সামান্য লবণটুকু জোটে না। তখন ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া এই মানুষগুলোর সহ্যের সীমা অতিক্রম করে। লাগামহীন-অসংযত রাগ বিস্ফোরকের মতো ছড়িয়ে পড়ে। প্রকাশ্যে পুঞ্জীভূত রাগের এই বহিঃপ্রকাশকে তীব্রতা করে ফুটিয়ে তুলতেই, 'আমি তার মাথায় চড়ি' পঙ্ক্তিটি লেখা হয়েছে।
Q8. "আমরা তো সামান্য লোক / আমাদের শুকনো ভাতে লবণের ব্যবস্থা হোক'-কবিতায় 'সামান্য লোক' কারা? তাদের 'শুকনো ভাতে লবণের ব্যবস্থা' করার দাবি কীভাবে উল্লিখিত হয়েছে লেখো। (Mark : 2 + 3 = 5)
❐ কবি জয় গোস্বামীর 'ভুতুমভগবান' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া, পাঠ্য 'নুন' কবিতার আলোচ্য অংশে 'সামানা লোক' বলতে কবি সমাজের দারিদ্রপীড়িত নিম্নবর্গীয় মানুষদের কথা বোঝাতে চেয়েছেন।
▻ আলোচ্য কবিতার মাধ্যমে নিম্নবিত্তের একঘেয়ে অভাব অতিক্রমকারী: সত্যিকারের দাবির কথা ফুটিয়ে তুলেছেন কবি। স্বাধীনতার পর হয়তো এরা স্বপ্ন দেখেছিল পেট ভরে দু-বেলা খেতে পাবে। ভেবেছিল মাথাগোঁজার ঠাঁই ও লজ্জা নিবারণের ব্যবস্থা হবে। কিন্তু অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। জীবনযুদ্ধে চলতে চলতেই দেয়ালের প্রান্তে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় এরা নিজস্ব প্রত্যাঘাতের পথে হেঁটেছে। দুপুররাতে বাড়ি ফিরে ঠান্ডা ভাতে সামান্য লবণের বন্দোবস্ত না-হওয়ায় ভেঙেছে সহনশীলতার বাঁধ। তোয়াক্কা না-করে তাদের ক্ষোভের নিজস্ব বিস্ফোরণে মুহূর্তের জন্য হলেও ক্ষমতাবানের নিশ্ছিদ্র শাস্তিস্বর্গ কলসে উঠেছে। সারাজীবন এই শ্রমজীবী মানুষেরা অভাবে ধারদেনাতে জীবন কাটাতে কাটাতে ক্লান্ত। দিন বদলে যায় প্রকৃতির নিয়মে কিন্তু তারা থেকে যার পীড়িত ক্ষুধার্তই। তাই দাবি জানাতে সোচ্চার হয় তারা।
একাদশ দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা গল্প ছুটি, একাদশ শ্রেণি বাংলা দ্বিতীয় সেমিস্টার, একাদশ শ্রেণি দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা নাটক আগুন, একাদশ দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা লালন শাহ ফকিরের গান, একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টারের বাংলা সাজেশন ২০২৬, একাদশ শ্রেণি বাংলা দ্বিতীয় সেমিস্টার নুন কবিতার সারাংশ, একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা লাস্ট মিনিট সাজেশন, একাদশ শ্রেণী দ্বিতীয় সেমিস্টার, একাদশ শ্রেণি সেমিস্টার 2 বাংলা, একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার নুন কবিতার আলোচনা, একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার নুন কবিতা,নুন কবিতা প্রশ্ন উত্তর,নুন কবিতা pdf,একাদশ শ্রেণীর দ্বিতীয় সেমিস্টার,একাদশ শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় সেমিস্টার
| Class - XI Bengali (2nd Semester) | |
|---|---|
| গল্প | |
| ছুটি | Click Here |
| তেলেনাপোতা আবিষ্কার | Click Here |
| কবিতা | |
| ভাব সম্মিলন | Click Here |
| লালন শাহ্ ফকিরের গান | Click Here |
| নুন | Click Here |
| নাটক | |
| আগুন | Click Here |
| পূর্ণাঙ্গ সহায়ক গ্রন্থ : পঞ্চতন্ত্র | |
| বই কেনা | Click Here |
| আজব শহর কলকেতা | Click Here |
| পঁচিশে বৈশাখ | Click Here |
| আড্ডা | Click Here |
বাংলা শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাস | তৃতীয় অধ্যায় : আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ধারা-গদ্যসাহিত্য | কাব্য কবিতার ধারা | বাংলা নাটক ও যাত্রার ধারা | উপন্যাস ও ছোটোগল্প | চতুর্থ অধ্যায় : লৌকিক সাহিত্যের নানা দিক | প্রবন্ধরচনা |মানস-মানচিত্র অনুসরণে -বিতর্কমূলক
| বাংলা শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাস | |
|---|---|
| তৃতীয় অধ্যায় : আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ধারা | |
| গদ্যসাহিত্য | Click Here |
| কাব্য কবিতার ধারা | Click Here |
| বাংলা নাটক ও যাত্রার ধারা | Click Here |
| উপন্যাস ও ছোটোগল্প | Click Here |
| চতুর্থ অধ্যায় : লৌকিক সাহিত্যের নানা দিক | Click Here |
| প্রবন্ধরচনা | |
| Click Here | |
